শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় দেয়ালচাপায় নিমাই চন্দ্র বণিক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
এ ঘটনায় বস্তির লোকজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হলে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রেখে কেটে পড়ে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব প্রদানকারী ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন।
আহতদের মধ্যে রুবেল, অন্তর ও কামাল হোসেন নামে তিন যুবককে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর অভিযোগ, রেলওয়ের জমিতে অনেক প্রভাবশালী পরিবারের বড় বড় স্থাপনা রেখে হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের বাড়িঘর প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এমনকি, স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য তাদের কোনো নোটিশ এবং সময় দেয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে বস্তির শীলা রানী বণিক জানান, তার ভাই সরারচর বাজারের এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। উচ্ছেদ অভিযানে আমাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এমন খবরে আমাদের দেখতে এসে তিনি দেয়ালচাপায় মারা যান।
তার দাবি, কোনো প্রকার নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অতর্কিত এ বিভীষিকাময় অভিযান চলার কারণে তার ভাইয়ের এ করুণ মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
সরারচর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন বলেন, অদৃশ্য কারণে রেললাইনের আশপাশে অনেক প্রভাবশালী পরিবারের অনেক পাকা বড় বড় স্থাপনা থাকলেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী ভ্রাম্যমাণ আদালত সে সব স্পর্শও করেননি।
কিন্তু হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী ভূমিহীন মানুষগুলোর স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার সুযোগ না দিয়ে নির্বিচারে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযানে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অভিযানের বলি হয়েছেন শ্রমজীবী নিমাই চন্দ্র বণিক। আহত হয়েছেন তিন যুবক। তিনিও সরকারের কাছে নিহত নিমাই বণিক এবং আহত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
সরারচর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. মিজানুর রহমান বলেন, রেলওয়ে ঢাকার স্ট্যাট ডিপার্টমেন্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
তিনি দেয়ালচাপায় হতাহতের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেন। হতাহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় বলেও তিনি জানান।
নগরকন্ঠ.কম/এআর